কুনমিং টংরেন হাসপাতাল সম্প্রতি বহুমাত্রিক চিকিৎসা সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
৬১ বছর বয়সী বাংলাদেশি রোগী ফালিদা (ছদ্মনাম) দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাঁটুর তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার বাম হাঁটুর ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে, সমতল রাস্তা দিয়েও হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়। সঠিক চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার পরিবার বিশেষভাবে চীনের কুনমিং টংরেন হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার দুই হাঁটুতে অবক্ষয়জনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধরা পড়ে। পর্যাপ্ত আলোচনার পর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ দল তার বাম হাঁটুর টোটাল নি আর্থ্রোপ্লাস্টি (সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপন) সার্জারি সম্পন্ন করে।
অস্ত্রোপচার সফলভাবে শেষ হওয়ার পরপরই হাসপাতালের রিহ্যাবিলিটেশন মেডিকেল সেন্টার দ্রুত পুনর্বাসন চিকিৎসা শুরু করে। রোগীর জন্য সেমিকন্ডাক্টর লেজার থেরাপি, ইনট্রা-মাসকুলার প্যাচ ট্রিটমেন্ট, নিউম্যাটিক থেরাপি এবং উন্নত টিয়ানঝি ওজন কমানোর সিস্টেমের সহায়তায় দ্রুত সার্জারি-পরবর্তী পুনর্বাসন দেওয়া হয়। এই আধুনিক থেরাপিগুলো ফোলা কমাতে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে ও ডিপ ভেন থ্রোম্বোসিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সার্জারির প্রথম দিন থেকেই রোগী দাঁড়িয়ে হাঁটার প্রশিক্ষণ শুরু করতে সক্ষম হন, যা “অপারেশনের পর দ্রুত মাটিতে হাঁটা ও দ্রুত সুস্থতা” ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়।

বর্তমানে ফালিদা হাসপাতালের রিহ্যাবিলিটেশন মেডিকেল সেন্টারে নিয়মিত ফলো-আপ নিচ্ছেন এবং প্রতিদিন তার চলাচল ক্ষমতা বাড়ছে। মুখে হাসি ও সুস্থ জীবনের আশা ফুটে উঠেছে।