ভিসানিউজ২১: বিশেষ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষ কর্মী ভিসা (এইচ-১বি) আবেদনের জন্য প্রতি বছর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত।
ভারত ও চীনের ওপর প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এইচ-১বি ভিসার ৭১% সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের অংশ মাত্র ১১.৭%। ফলে নতুন ফি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক চাপ পড়বে ভারতের ওপর। চীনও বড় ধরনের প্রভাব অনুভব করবে, যদিও সংখ্যার হিসেবে তা ভারতের তুলনায় অনেক কম।
ভারতের নাগরিকদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি হলো—গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সময় বারবার ভিসা নবায়ন করতে হয়। নতুন নিয়মে প্রতিটি নবায়নের জন্যই ১ লাখ ডলার করে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে।
মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
রয়টার্স জানায়, আমাজন ডটকম ও এর ক্লাউড ইউনিট এডব্লিউএস এই বছরের প্রথমার্ধে ১২ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন পেয়েছে। মাইক্রোসফট ও মেটা প্ল্যাটফর্মস প্রত্যেকে পেয়েছে ৫ হাজারের বেশি অনুমোদন।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানই এইচ-১বি ভিসার জন্য বছরে ১ লাখ ডলার ফি দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে।”
বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক আইটি প্রতিষ্ঠান কগনিজ্যান্ট টেকনোলজি সলিউশনস–এর শেয়ারমূল্য প্রায় ৫% কমেছে।
- ভারতীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট ইনফোসিস ও উইপ্রোর শেয়ারও ২–৫% পর্যন্ত পড়ে গেছে।
ভারত ও চীনের নীরবতা
এখনো পর্যন্ত ভারত কিংবা চীন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রয়টার্স ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস ও নিউইয়র্কে চীনা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তৎক্ষণাৎ কোনো সাড়া মেলেনি।
ট্রাম্পের নতুন এই ফি–নীতি সবচেয়ে বড় আঘাত হানবে ভারতীয় আইটি ও টেক খাতে, যেখানে লাখো দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেন। চীনও ঝুঁকিতে আছে, তবে ভারতের তুলনায় ক্ষতির মাত্রা অনেক কম।